ক্যালসিয়াম এর প্রয়োজন কেন? – শরীরে ক্যালসিয়ামের ঘাটতি হলে কী হয়

sojibmahrab Comments 0 September 8, 2019

ছোটবেলায় আমরা প্রায় প্রতিদিনই দুধ খেতাম ক্যালসিয়ামের ঘাটতি পূরণে এবং হাড়ের বৃদ্ধি ভালো করতে। তবে বড় হওয়ার সাথে সাথে এই অভ্যাস যেন চলেই যায়; দুধ খাওয়া হয় কদাচিৎ। তবে কেবল ছোটবেলাতেই নয়, হাড় ভালো রাখতে বড় হওয়ার পরও ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া প্রয়োজন।

আপনি নিশ্চয়ই জেনে আশ্চর্য হবেন না যে আমাদের শরীরের ৯৯ শতাংশ ক্যালসিয়াম থাকে হাড়ে এবং কিছু থাকে দাঁতে। এ ছাড়া কিছু সফট টিস্যু এবং ফ্লুইডের মধ্যে পাওয়া যায়। তাই হাড় মজবুতভাবে গঠনে ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার প্রয়োজন।

প্রতিদিন কতটুকু ক্যালসিয়াম আমাদের প্রয়োজন?

বিশেষজ্ঞরা বলেন, প্রাপ্তবয়স্কদের প্রতিদিন ৭০০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম খাওয়া প্রয়োজন। তবে গর্ভাবস্থায় এবং যেসব মায়েরা শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ান তাঁদের বেলায় এটি আরো বেশি প্রয়োজন। তবে এর পাশাপাশি ভিটামিন ডি-ও খেতে হবে। কেননা এটি শরীরে ক্যালসিয়ামকে শোষণ করতে সাহায্য করে।

ভিটামিন ডি পাওয়া যায় সূর্যের আলো থেকে এবং দুগ্ধ জাতীয় খাবার থেকে আসে ক্যালসিয়াম। এ ছাড়া সবুজ শাকসবজি, বাদাম, টফু, কমলা ইত্যাদিতে ক্যালসিয়াম পাওয়া যায়।

 

ক্যালসিয়ামের অভাবে শরীরে বিভিন্ন ধরনের রোগ হতে পারে।

যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম দ্য ডেইলি ইনডিপেনডেন্ট জানিয়েছে ক্যালসিয়ামের অভাবে শরীরে কী হয়

১. ক্যালসিয়ামের অভাবে রিকেট রোগ হয়।এই রোগে হাড় নরম এবং দুর্বল হয়ে পড়ে। এ ছাড়া ভিটামিন ডিয়ের অভাব দীর্ঘস্থায়ী হাড়ের ক্ষতি করে দিতে পারে। রিকেট রোগ আগে একটি বড় ধরনের সমস্যা ছিল। তবে বর্তমানে এ সমস্যা অনেক কমেছে।

২. ক্যালসিয়ামের অভাবে হাড় ফ্র্যাকচার হয়। যারা ক্যালসিয়ামের অভাবে ভোগে তারা একপর্যায়ে হাড় ফ্র্যাকচারের সমস্যায় পড়তে পারে।মেয়েদের মনোপোজের (দীর্ঘস্থায়ী ঋতুস্রাব বন্ধ হয়ে যাওয়া) পর এই সমস্যা হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। তাই বয়ঃসন্ধিকালে অবশ্যই ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে।

৩. ক্যালসিয়ামের অভাবে প্রবীণ বয়সে অস্টিয়োপোরোসিস বা হাড় ক্ষয়ের রোগ হয়। গবেষণায় বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় তিন মিলিয়ন লোক এই সমস্যায় ভোগে। এ ছাড়া পারিবারিক ইতিহাস থাকলেও এই রোগ হতে পারে। ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ডিয়ের অভাব, মদ্যপান ও ধূমপানের কারণেও এই সমস্যা হতে পারে। এই রোগ প্রতিকারে চিকিৎসকরা সাধারণত ভিটামিন ডি ও ক্যালসিয়াম সাপ্লিমেন্ট দিয়ে থাকেন।

৪. এ ছাড়া বেশির ভাগ ক্যালসিয়াম কাজে লাগে হাড়ের গঠন এবং শক্তি বর্ধনে। যদি খাদ্য তালিকায় ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার না থাকে তাহলে এই হাড়ের গঠন দুর্বল হয় এবং শক্তি কম থাকে।

৫. ক্যালসিয়ামের অভাবে হাইপোক্যালসিয়মিয়া হয়ে পেশির টিট্যানি রোগ হয়। এ ছাড়া মুখে লাল অথবা গোলাপি রঙের র‍্যাশ হতে পারে। তাই এসব সমস্যা সমাধানে খাদ্য তালিকায় অবশ্যই ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার রাখতে  হবে।

Calcium

Calcium মূল খনিজ যা হাড়ের স্বাস্থ্য রক্ষণাবেক্ষণে সহায়তা করে। এটি অন্যান্য সুবিধাও রয়েছে, উদাহরণস্বরূপ এটি পেশী ফাংশন উন্নত করে, হৃদয় তাল শক্তিশালী করে এবং রক্ত ​​প্রবাহে অন্যান্য খনিজগুলির (পটাসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস) স্তরের বজায় রাখে। Calcium স্বাভাবিকভাবেই দুগ্ধজাত দ্রব্য বা পাতা কপি এবং ব্রোকোলি এবং সিরিয়ালগুলির মতো শাকসব্জিতে পাওয়া যায়, তবে খনিজকে স্বাস্থ্যের সমস্যাগুলির একটি অস্টিওপরোসিস এবং অস্টিওপেনিয়া।

এছাড়াও Calcium কার্যকরভাবে হাইপারটেনশন নিয়ন্ত্রণ করে এবং পরিচিত হয় একটি বড় পরিমাণে পিএমএস লক্ষণ কমাতে।Calcium স্বাভাবিক মাত্রায় নেওয়া হয় যখন গ্যাসের মতো কিছু পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হতে পারে, কোষ্ঠকাঠিন্য এবং ব্লোটিং । উচ্চ মাত্রায় খাওয়াতে পারে ফলে কিডনি পাথর গঠন হতে পারে।

শরীরের মধ্যে, বিশেষ করে পুরুষদের ক্ষেত্রে। যে ব্যক্তিরা Calcium সম্পূরকগুলি গ্রহণ করছে এবং সেইসাথে প্রচুর ক্যালসিয়াম নিচ্ছেন তাদের ক্ষেত্রে হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোক হতে পারে। Calcium সম্পূরকগুলি শুরু করার আগে, আপনার ডাক্তারকে কোনও ঔষধ এবং আপনি যে কাউন্টার ড্রাগগুলি নিয়ে যাচ্ছেন তা সম্পর্কে জানান। এটি প্রাথমিকভাবে কারণ, কিছু জটিলতা সৃষ্টি করে অন্যান্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে। কিডনি সমস্যা, হাড়ের টিউমার এবং হৃদরোগের রোগীদের Calcium সম্পূরকগুলি গ্রহণ করা চলবে না যতক্ষণ পর্যন্ত না তারা ডাক্তারের পরামর্শ নিচ্ছেন।

0 Comments

Leave a Reply